গুগল সাইটম্যাপে ডিসকভার্ড কারেন্টলি নট ইনডেক্সড এরর সহজ সমাধান

Google Search Console SEO Guide



সাইটম্যাপ জমা দিলেন, সার্চ কনসোলে গিয়ে অপেক্ষা করলেন। কয়েক দিন পর ঢুকে দেখেন, পোস্টগুলোর পাশে লেখা "Discovered – currently not indexed"। মানে কী? গুগল আপনার পোস্টের ঠিকানা জানে, অথচ ভেতরে ঢুকে একবার উঁকিও দেয়নি!

এটা দেখলে মেজাজ খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে ঘাবড়ানোর আগে একটু বুঝে নিন, এটা সবসময় বড় কোনো ভুল না। কোনটা আপনার হাতে, কোনটা শুধু অপেক্ষার ব্যাপার, সব এই লেখায় খোলাসা করছি।

[ছবি: সার্চ কনসোলের Pages রিপোর্টে এই স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট]



পোস্ট সূচিপত্রঃ গুগল সাইটম্যাপে ডিসকভার্ড কারেন্টলি নট ইনডেক্সড এরর সমাধান

  • গুগল সাইটম্যাপে ডিসকভার্ড কারেন্টলি নট ইনডেক্সড এরর সমাধান
  • ডিসকভার্ড কারেন্টলি নট ইনডেক্সড আসলে কী বোঝায়
  • ক্রলড আর ডিসকভার্ডের মধ্যে ফারাক কোথায়
  • সার্চ কনসোলে এই সমস্যা কোথায় দেখবেন
  • পেজ ইনডেক্স না হওয়ার আসল কারণগুলো কী কী
  • ইনডেক্স হচ্ছে না, আগে কোন জিনিসগুলো চেক করবেন
  • কনটেন্টের মান আর ইন্টারনাল লিংক ঠিক করার উপায়
  • সাইটম্যাপ পরিষ্কার করার সহজ নিয়ম
  • রিকোয়েস্ট ইনডেক্সিং কখন কাজে লাগে আর কখন লাগে না
  • ঠিক করার পরও কতদিন অপেক্ষা করবেন
  • শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

গুগল সাইটম্যাপে ডিসকভার্ড কারেন্টলি নট ইনডেক্সড এরর সমাধান

গুগল সাইটম্যাপে ডিসকভার্ড কারেন্টলি নট ইনডেক্সড এরর সমাধান নিয়ে বসার আগে একটা ভুল ধারণা ভেঙে দেওয়া দরকার। অনেকে এটাকে "এরর" বলেন, কিন্তু সার্চ কনসোল একে দেখায় স্ট্যাটাস হিসেবে। এটা কোনো পেনাল্টি না, হ্যাকিংয়ের সংকেতও না। পেজটা শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, ডাক পড়েনি।

ধরুন, এক সপ্তাহে আপনি দশটা পোস্ট লিখে সাইটম্যাপ জমা দিলেন। দেখা গেল দুইটা ইনডেক্স হয়েছে, বাকিগুলো আটকে আছে। কেন এমন হলো? কারণ খুঁজতে গেলে চারটা ধাপে এগোনো ভালো। আগে বুঝুন স্ট্যাটাসটা আসলে কী বলছে। তারপর টেকনিক্যাল জিনিস দেখুন। এরপর কনটেন্ট আর লিংক গোছান। শেষে সাইটম্যাপ পরিষ্কার করে একটু ধৈর্য ধরুন।

ডিসকভার্ড কারেন্টলি নট ইনডেক্সড আসলে কী বোঝায়

গুগল সাধারণত দুইভাবে আপনার পেজ খুঁজে পায়। একটা সাইটম্যাপ থেকে, অন্যটা অন্য কোনো পেজের লিংক ধরে। খুঁজে পাওয়ার নাম ডিসকভারি। এরপর আসে ক্রলিং, মানে গুগলবট পেজে গিয়ে লেখাটা পড়ে। সবশেষে ইনডেক্সিং, মানে পেজটাকে সার্চের তালিকায় রাখা। আপনার পেজ প্রথম ধাপ পেরিয়েছে, দ্বিতীয়টার আগে থেমে আছে।

গুগলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পেজটা পাওয়া গেছে কিন্তু এখনো ক্রল হয়নি। অনেক সময় গুগল ক্রল করতে চেয়েছিল, কিন্তু ধারণা করেছিল এতে আপনার সাইটের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। তাই কাজটা পরের জন্য তুলে রেখেছে। এজন্যই রিপোর্টে "শেষ ক্রলের তারিখ" ফাঁকা থাকে। আরেকটা কথা মাথায় রাখুন, গুগল সব পেজ ইনডেক্স করার কোনো গ্যারান্টি দেয় না।

ক্রলড আর ডিসকভার্ডের মধ্যে ফারাক কোথায়

সার্চ কনসোলে দুটো স্ট্যাটাস প্রায় একই রকম শোনায়, তাই গোলমাল পাকানো সহজ। একটা Discovered – currently not indexed, আরেকটা Crawled – currently not indexed।

বইয়ের দোকানের উদাহরণ ভাবুন। প্রথমটায় বইয়ের নাম তালিকায় আছে, কিন্তু কেউ বইটা হাতেই নেয়নি। দ্বিতীয়টায় বইটা খুলে পড়া হয়েছে, কিন্তু তাকে সাজানো হয়নি। সাধারণত প্রথম স্ট্যাটাস পেজের অগ্রাধিকার, সার্ভার আর লিংকের দিকে ইঙ্গিত করে। দ্বিতীয়টা ইঙ্গিত করে লেখার মান বা ডুপ্লিকেট কনটেন্টের দিকে। একটা পেজ প্রথম অবস্থা থেকে দ্বিতীয়টায় চলে যেতেও পারে। কাজেই কোন স্ট্যাটাস দেখছেন, সেটা আগে মিলিয়ে নিন।

সার্চ কনসোলে এই সমস্যা কোথায় দেখবেন

সার্চ কনসোলে নিজের প্রোপার্টি বেছে নিয়ে বাঁদিকের মেনু থেকে Indexing → Pages-এ যান। নিচে "Why pages aren't indexed" নামের তালিকা পাবেন। সেখানে Discovered – currently not indexed লেখা সারিতে ক্লিক করলে কিছু উদাহরণ URL দেখা যাবে।

শুধু সাইটম্যাপের URL দেখতে চাইলে ওপরের ফিল্টার থেকে "All submitted pages" বেছে নিন। তখন রিপোর্টে সাইটম্যাপে থাকা পেজগুলোর হিসাবই আসবে।

এবার একটা আটকে থাকা URL কপি করে ওপরের সার্চ বক্সে পেস্ট করুন। এটাই URL Inspection টুল। সেখানে শেষ ক্রলের তারিখ ফাঁকা বা N/A দেখালে বুঝবেন, গুগল সত্যিই পেজটায় এখনো যায়নি।

পেজ ইনডেক্স না হওয়ার আসল কারণগুলো কী কী

পেজ ইনডেক্স না হওয়ার আসল কারণগুলো একটা একটা করে দেখা যাক।

প্রথম কারণ সার্ভার। সাইট ধীর হলে বা বারবার এরর দিলে গুগলবট নিজেই পিছিয়ে যায়, যাতে সাইটে চাপ না পড়ে। দ্বিতীয় কারণ সাইটের বয়স। নতুন সাইট গুগলের কাছে তখনো ভরসার জায়গায় পৌঁছায়নি, তাই তার পেজ অগ্রাধিকারের তালিকায় নিচে থাকতে পারে।

তৃতীয় কারণ কনটেন্ট। পাতলা লেখা, অন্য লেখার সাথে হুবহু মিল, বা একই বিষয়ে আপনারই কয়েকটা প্রায় একই পোস্ট। গুগল ভাবে, এগুলো আলাদা করে সময় দেওয়ার মতো না। চতুর্থ কারণ ইন্টারনাল লিংকের অভাব। পোস্টটা শুধু সাইটম্যাপে আছে, সাইটের ভেতর থেকে কেউ তাতে লিংক দেয়নি।

পঞ্চম কারণ সাইটম্যাপের ভিড়। যে সাইটে হাজার হাজার URL, সেখানে ক্রল বাজেটও একটা বিষয়। সাইটম্যাপে ট্যাগ, আর্কাইভ বা অকাজের URL ঢুকে থাকলে গুগলের মনোযোগ ছড়িয়ে যায়।

ইনডেক্স হচ্ছে না, আগে কোন জিনিসগুলো চেক করবেন

ইনডেক্স হচ্ছে না, আগে কোন জিনিসগুলো চেক করবেন, এটা ঠিক করতে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে মাথা ঠান্ডা রেখে টেকনিক্যাল দিকটা একবার দেখে নিন। URL Inspection টুলে পেজের ঠিকানা বসিয়ে Test Live URL চাপুন। এতে বোঝা যাবে, গুগল এই মুহূর্তে পেজটা ঠিকমতো খুলতে পারছে কিনা।

এরপর তিনটা জিনিস দেখুন। এক, পেজে ভুলে noindex ট্যাগ বসে আছে কিনা। থিম বা প্লাগিনের সেটিং থেকে অনেক সময় এটা নিজে নিজেই চলে আসে। দুই, সাইটম্যাপের ঠিকানা আর পেজের আসল (canonical) ঠিকানা এক কিনা। সাইটম্যাপে http আছে অথচ সাইট চলে https-এ, কিংবা www আছে একদিকে আর অন্যদিকে নেই, এমন গোলমাল গুগলকে দ্বিধায় ফেলে। তিন, সাইট কত দ্রুত সাড়া দেয়।

শেয়ার্ড হোস্টিংয়ে ভিড় বেশি হলে সার্ভার ধীর হতে পারে। ব্লগারে হোস্টিং গুগলের নিজের, তাই সার্ভারের দিকটা সাধারণত কম মাথাব্যথার। সেখানে কনটেন্ট আর লিংকের দিকে বেশি নজর দেওয়াই ভালো।

কনটেন্টের মান আর ইন্টারনাল লিংক ঠিক করার উপায়

কনটেন্টের মান আর ইন্টারনাল লিংক ঠিক করার উপায় জানলে ছোট সাইটের বেশিরভাগ সমস্যা মিটে যায়। ছোট সাইটে ক্রল বাজেট সাধারণত মূল সমস্যা না। গুগল পেজটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, এটাই বেশি দেখা যায়।

নিজেকে একটা প্রশ্ন করুন: এই পোস্টে এমন কী আছে, যা সার্চে আগে থেকে থাকা লেখাগুলোতে নেই? অন্য সাইট থেকে ঘুরিয়ে লেখা পোস্ট, একই বিষয়ে আপনারই তিনটা প্রায় একই লেখা, কিংবা দুই-তিন অনুচ্ছেদের পাতলা পোস্ট, এগুলোই সবচেয়ে বেশি আটকে থাকে। পাতলা পোস্ট থাকলে হয় গভীর করুন, নয়তো একই বিষয়ের পোস্টগুলো মিলিয়ে একটা ভালো পোস্ট বানান।

ইন্টারনাল লিংক মানে আপনার সাইটের এক পোস্ট থেকে আরেক পোস্টে লিংক। সাইটম্যাপে নাম থাকলেও যে পোস্টে ভেতর থেকে কোনো লিংক আসেনি, গুগলের চোখে তার গুরুত্ব কম। নতুন পোস্ট ছাড়ার পর সম্পর্কিত দুই-তিনটা পুরোনো পোস্ট থেকে লিংক দিন, বিশেষ করে যেগুলো আগে থেকেই ইনডেক্সড আর পাঠক পায়। হোমপেজ, ক্যাটাগরি পেজ বা মেনু থেকেও লিংক রাখা যায়। লিংকের লেখাটা অর্থবহ রাখুন। "এখানে ক্লিক করুন" না লিখে লিখুন "ব্লগারে সাইটম্যাপ জমা দেওয়ার নিয়ম"।

আরো পড়ুনঃ [আপনার সাইটের সংশ্লিষ্ট একটা পোস্টের লিংক এখানে বসান]

সাইটম্যাপ পরিষ্কার করার সহজ নিয়ম

সাইটম্যাপ পরিষ্কার করার সহজ নিয়মের মূল কথা একটাই: সাইটম্যাপে শুধু সেই URL থাকবে, যেটা আপনি চান গুগল ইনডেক্স করুক। অন্য ঠিকানায় চলে যাওয়া (redirect) URL, খুঁজে না পাওয়া (404) পেজ, noindex দেওয়া পেজ বা ডুপ্লিকেট URL সাইটম্যাপে রাখলে গুগলের কাছে ভুল সংকেত যায়। ট্যাগ পেজ, সার্চ রেজাল্ট পেজ আর ফিল্টারের প্যারামিটারওয়ালা লিংক সাধারণত সাইটম্যাপের বাইরে রাখাই ভালো।

ওয়ার্ডপ্রেসে Yoast বা Rank Math-এর মতো প্লাগিনের সেটিং থেকে ট্যাগ বা অকাজের টাইপ সাইটম্যাপ থেকে বাদ দেওয়া যায়। ব্লগারে সাইটম্যাপ নিজে থেকেই তৈরি হয়। ঠিকানাটা সাধারণত আপনার ব্লগের ঠিকানার শেষে /sitemap.xml।

সাইটম্যাপ জমা দেওয়ার মানে গুগলকে ঠিকানাগুলো জানানো, ইনডেক্সের নিশ্চয়তা পাওয়া না। তাই সাইটম্যাপ নিখুঁত থাকলেও অন্য কারণে পেজ আটকে থাকতে পারে। বারবার জমা দিলে ইনডেক্স দ্রুত হয়ে যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তাও নেই।

রিকোয়েস্ট ইনডেক্সিং কখন কাজে লাগে আর কখন লাগে না

রিকোয়েস্ট ইনডেক্সিং কখন কাজে লাগে আর কখন লাগে না, এটা নিয়ে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। URL Inspection-এ পেজের ঠিকানা দিয়ে Request Indexing বাটনে ক্লিক করলে গুগলকে আলাদা করে অনুরোধ জানানো হয় পেজটা দেখার জন্য।

এটা কাজে লাগে যখন আপনি পেজের সমস্যা ঠিক করে ফেলেছেন, কিংবা সবে একটা গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট ছেড়েছেন। কিন্তু পেজে আসল দুর্বলতা থেকে গেলে অনুরোধ পাঠিয়েও লাভ হয় না। এই সুবিধার একটা সীমাও আছে, তাই সব URL-এ বারবার চাপাচাপি না করে শুধু আসল দরকারি পেজগুলোতে ব্যবহার করুন। অনুরোধ পাঠালেই ইনডেক্স হবে, এমন গ্যারান্টিও নেই।

ঠিক করার পরও কতদিন অপেক্ষা করবেন

ঠিক করার পরও কতদিন অপেক্ষা করবেন, এর কোনো বাঁধা সময় গুগল দেয়নি। সাইটের আকার, আপডেটের হার আর পেজের মানের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তাই এক-দুই দিনে ফল না দেখে হতাশ হবেন না।

সবকিছু ঠিক করার পর মোটামুটি কয়েক সপ্তাহ পরেও যদি কোনো নড়চড় না দেখেন, তখন আবার পেজগুলো ধরে ধরে দেখুন। গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে নতুন করে মান বাড়ান। দুর্বল পোস্টগুলো একটা ভালো পোস্টে মিলিয়ে দিন, কিংবা একদম মুছে দিন। মুছলে সাইটম্যাপ থেকেও বাদ দিতে ভুলবেন না। আর মনে রাখবেন, কিছু পেজ হয়তো কখনোই ইনডেক্স হবে না। সেটা অস্বাভাবিক কিছু না।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

Discovered – currently not indexed দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আবার উড়িয়ে দেওয়ারও কিছু নেই। এটা গুগলের তরফ থেকে একটা ইঙ্গিত, যেন সে বলছে: "পেজটা চিনি, তবে এখনই সময় দিচ্ছি না।" সেই ইঙ্গিতের উত্তর অনেক সময় লুকিয়ে থাকে আপনার নিজের লেখার ভেতরেই।

সাইটম্যাপে ঠিকানার সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই, যদি প্রতিটা পোস্ট নিজের যোগ্যতায় দাঁড়াতে না পারে। বরং কম লিখুন, কিন্তু যেটা লিখছেন সেটা পাঠকের কাজে লাগুক। ইন্টারনাল লিংকে একটু সময় দিন, সাইটম্যাপটা ছিমছাম রাখুন। বাকিটা সময়ের ব্যাপার।

পরের বার সার্চ কনসোলে ওই স্ট্যাটাস চোখে পড়লে মাথা গরম না করে আগে নিজের পোস্টটা একজন পাঠকের চোখে পড়ে দেখুন। অনেক সময় উত্তরটা ওখানেই মিলে যায়।

Share this post with your friends.

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
No one has commented on this post yet.
Click here to comment.

Please comment in accordance with Future Dokan policies Every comment is reviewed.

comment url