মোবাইল দিয়ে ক্যানভা এডিট করুন এবং বিক্রি করে আয় করুন
মোবাইল দিয়ে ক্যানভা এডিট করুন এবং বিক্রি করে আয় করুন সম্পর্কে জানতে চাইলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। কারণ আজকে আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলব, মোবাইলে ক্যানভা দিয়ে কীভাবে ডিজাইন এডিট করবেন আর সেই কাজ কোথায় বিক্রি করে ইনকাম করবেন।
অনেকেই ভাবেন ডিজাইনের কাজ মানেই দামি কম্পিউটার আর জটিল সফটওয়্যার। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। হাতে একটা স্মার্টফোন আর একটু ধৈর্য থাকলেই শুরু করা যায়। তাই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইল দিয়ে ক্যানভা এডিট করুন এবং বিক্রি করে আয় করুন
- মোবাইল দিয়ে ক্যানভা এডিট করুন এবং বিক্রি করে আয় করুন
- শুরু করার আগে যা যা লাগবে
- মোবাইলে ক্যানভা এডিটিংয়ের সহজ ধাপগুলো
- কী কী ডিজাইন এডিট করে বিক্রি করা যায়
- ক্যানভা ডিজাইন বিক্রির তিনটি জায়গা
- নিজের কাজের দাম কীভাবে ঠিক করবেন
- ক্লায়েন্ট পাওয়ার সহজ কৌশল
- কপিরাইট ও লাইসেন্স নিয়ে সতর্কতা
- নতুনদের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো
- শেষ কথা
মোবাইল দিয়ে ক্যানভা এডিট করুন এবং বিক্রি করে আয় করুন
মোবাইল দিয়ে ক্যানভা এডিট করুন এবং বিক্রি করে আয় করুন, কথাটা শুনতে সহজ মনে হলেও এর পেছনে একটা বাস্তব কারণ আছে। এখন ফেসবুক পেজ, অনলাইন শপ, কোচিং সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, সবারই প্রতিদিন কিছু না কিছু ডিজাইন লাগে। কারও পোস্টার লাগে, কারও ভিজিটিং কার্ড, কারও ইউটিউব থাম্বনেইল। সবাই তো আর নিজে ডিজাইন করতে পারে না, আর পেশাদার ডিজাইনার ভাড়া করাও ছোট ব্যবসার জন্য ঝামেলার।
এখানেই আপনার সুযোগ। ক্যানভার মোবাইল অ্যাপ ফ্রিতে পাওয়া যায়, ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপে কাজ হয়, আর হাজার হাজার রেডিমেড টেমপ্লেট আছে। তবে একটা কথা খোলামেলা বলে রাখি। এটা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার রাস্তা না। ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ করলে প্রথমে হাতখরচ, তারপর ধীরে ধীরে ভালো একটা আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। আমি এভাবেই দেখি।
শুরু করার আগে যা যা লাগবে
শুরু করতে বিশেষ কিছু লাগে না। একটা স্মার্টফোন যেটা ক্যানভা অ্যাপ সুন্দরভাবে চালাতে পারে, স্থিতিশীল ইন্টারনেট, আর ফোনে কিছুটা ফাঁকা স্টোরেজ। প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে Canva অ্যাপ ইনস্টল করে জিমেইল দিয়ে লগইন করে নিন।
প্রথমেই প্রো ভার্সন কেনার দরকার নেই। ফ্রি ভার্সনেই অনেক কাজ করা যায়। আগে হাত পাকান, কাজ আসতে শুরু করলে তখন প্রো নিয়ে ভাবুন। আর একটা জিনিস সঙ্গে রাখুন: একটা ছোট নোটবুক বা মোবাইলের নোট অ্যাপ। যেসব ডিজাইন ভালো লাগবে, সেগুলোর রং আর ফন্টের নাম লিখে রাখুন। পরে খুব কাজে দেয়।
মোবাইলে ক্যানভা এডিটিংয়ের সহজ ধাপগুলো
ধাপগুলো খুব জটিল না। আমি সহজ করে সাজিয়ে দিচ্ছি।
১. অ্যাপ খুলে প্রথমে ডিজাইনের সাইজ বেছে নিন। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ইউটিউব থাম্বনেইল, A4 পোস্টার, ভিজিটিং কার্ড, সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। সাইজ ভুল হলে পরে ছবি কেটে যায় বা ঝাপসা দেখায়।
২. এরপর একটা টেমপ্লেট বেছে নিন, অথবা ফাঁকা পেজ থেকে শুরু করুন। নতুনদের জন্য আমি টেমপ্লেট থেকে শুরু করাই ভালো মনে করি। তবে টেমপ্লেট যেমন আছে তেমন ব্যবহার করবেন না। নিজের মতো করে বদলে নিন।
৩. লেখা, রং আর ফন্ট বদলান। এই জায়গাতেই ডিজাইনের আসল সৌন্দর্য আসে। একটা ডিজাইনে দুই-তিনটার বেশি রং না রাখাই ভালো। ফন্টও দুইটার বেশি না। পড়তে সহজ আর চোখে আরামদায়ক ফন্ট বেছে নিন।
৪. ছবি আর এলিমেন্ট যোগ করুন। বাঁ পাশের মেনু থেকে আইকন, ফ্রেম, শেপ বা নিজের গ্যালারির ছবি বসাতে পারবেন। অতিরিক্ত এলিমেন্ট দিয়ে ডিজাইন ভরিয়ে ফেলবেন না। ফাঁকা জায়গাও ডিজাইনের অংশ।
৫. সব ঠিক আছে কি না আরেকবার দেখে নিন। বিশেষ করে বানান আর ফোন নম্বর। বাংলা বানান যাচাই নিয়ে আমি আগেই একটা আর্টিকেল লিখেছি, সেটা পড়ে নিতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইনে ভুল বানান সংশোধন করার নিয়ম
৬. সবশেষে ডাউনলোড করুন। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য সাধারণত PNG বা JPG ঠিক আছে, আর প্রিন্টের কাজ হলে PDF দিলে ভালো হয়।
কী কী ডিজাইন এডিট করে বিক্রি করা যায়
মোবাইলে ক্যানভা দিয়ে অনেক ধরনের কাজ করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ফেসবুক পেজের কভার, ইউটিউব থাম্বনেইল, ভিজিটিং কার্ড, ফ্লাইয়ার আর পোস্টার, বিয়ে বা জন্মদিনের ইনভাইটেশন কার্ড, সিভি বা রেজ্যুমে, এমনকি প্রেজেন্টেশন স্লাইডও।
আমার মতে নতুনদের জন্য সবচেয়ে সহজ শুরু হলো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আর ফেসবুক কভার। কারণ এগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, আর কাজটাও তুলনামূলক সহজ। একবার হাত পেকে গেলে ধীরে ধীরে লোগো, ব্র্যান্ড কিট বা বড় প্রজেক্টের দিকে যেতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ Canva দিয়ে ওয়েবসাইট ব্যানার তৈরি করার স্ক্রীনশট টিউটোরিয়াল
ক্যানভা ডিজাইন বিক্রির তিনটি জায়গা
এবার আসল প্রশ্ন, কাজ বানালাম, তো বিক্রি করব কোথায়? আমি মোটামুটি তিনটা পথ দেখি।
প্রথমত, সার্ভিস হিসেবে বিক্রি করা। এখানে আপনি ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন করে দেন। ফাইভার বা আপওয়ার্কের মতো মার্কেটপ্লেসে গিগ বা প্রোফাইল খুলতে পারেন। আবার আপনার এলাকার দোকান, ফেসবুক পেজ বা কোচিং সেন্টারের সাথেও সরাসরি কথা বলতে পারেন। নতুনদের জন্য এই পথটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বলে আমার মনে হয়, কারণ এখানে অর্ডার পেলে সাথে সাথে কাজ শুরু করা যায়।
দ্বিতীয়ত, টেমপ্লেট বানিয়ে বিক্রি করা। এখানে আপনি একবার ডিজাইন করে রাখেন, তারপর একই টেমপ্লেট বারবার অনেকের কাছে বিক্রি করতে পারেন। Etsy বা Creative Market-এর মতো মার্কেটপ্লেস এই কাজের জন্য জনপ্রিয়। তবে এখানে একটা বিষয় মাথায় রাখবেন। এসব প্ল্যাটফর্মে সেলার অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম দেশভেদে আলাদা হতে পারে, আর সময়ে সময়ে বদলায়ও। তাই কিছু করার আগে তাদের সর্বশেষ নিয়ম দেখে নিন। ক্যানভার নিজস্ব ক্রিয়েটর প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও একই কথা, শর্ত আর সুযোগ বদলাতে পারে, তাই অফিশিয়াল পেজ ঘেঁটে নিশ্চিত হয়ে নিন।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল দিয়ে Canva টেমপ্লেট ডিজাইন বিক্রি করে আয় করার সম্পূর্ণ নিয়ম
তৃতীয়ত, নিজের পেজ বা গ্রুপে কাজ দেখিয়ে অর্ডার নেওয়া। ফেসবুকে একটা পেজ খুলে নিয়মিত নিজের ডিজাইন পোস্ট করুন। ছোট ব্যবসায়ীরা অনেক সময় এভাবেই ডিজাইনার খুঁজে পান। হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে অর্ডার নিলে বিকাশ বা নগদে পেমেন্টও নেওয়া যায়। এই পথে শুরুতে একটু সময় লাগে, কিন্তু একবার নাম হয়ে গেলে ক্লায়েন্ট নিজেই খুঁজে আসে।
নিজের কাজের দাম কীভাবে ঠিক করবেন
দাম নিয়ে সবাই একটু দ্বিধায় থাকে। আমি এখানে নির্দিষ্ট কোনো অংক বলছি না, কারণ দাম নির্ভর করে কাজের ধরন, বাজার আর আপনার দক্ষতার ওপর। তবে কিছু সাধারণ নিয়ম বলতে পারি।
শুরুতে একটু কম দামে কয়েকটা কাজ করে ফেলুন, যাতে রিভিউ আর পোর্টফোলিও তৈরি হয়। তারপর ধাপে ধাপে দাম বাড়ান। ছোট কাজ, মাঝারি কাজ আর বড় কাজের জন্য আলাদা আলাদা প্যাকেজ বানিয়ে রাখলে ক্লায়েন্টের জন্য বোঝা সহজ হয়। আর কয়বার সংশোধন করে দেবেন, সেটা শুরুতেই পরিষ্কার করে বলে দিন। নইলে একটা কাজেই অনন্তকাল আটকে থাকতে হতে পারে।
ক্লায়েন্ট পাওয়ার সহজ কৌশল
ক্লায়েন্ট পেতে হলে সবার আগে দরকার নিজের কাজ দেখানোর একটা জায়গা। ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম বা ক্যানভার একটা ফোল্ডার, যেটাই হোক, সেখানে সেরা কাজগুলো সাজিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে "আগে ও পরে" দেখান, মানে সাধারণ একটা ছবি কীভাবে সুন্দর ডিজাইনে বদলে গেল। এটা মানুষের চোখে খুব ভালোভাবে ধরা পড়ে।
এছাড়া কিছু ছোট অভ্যাসও অনেক কাজে লাগে। মেসেজের উত্তর দ্রুত দেওয়া, ডেলিভারির সময় মেনে চলা, আর ক্লায়েন্টের দেওয়া তথ্য, বিশেষ করে নাম, নম্বর আর বানান ডিজাইন পাঠানোর আগে ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া। ছোট ভুলও ক্লায়েন্টের আস্থা নষ্ট করে দিতে পারে। আমার মতে ভালো আচরণ আর সময়মতো কাজ দেওয়াই একজন ডিজাইনারের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।
আরও পড়ুনঃ গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার পূর্বশর্তসমূহ
কপিরাইট ও লাইসেন্স নিয়ে সতর্কতা
এই জায়গাটা অনেকেই হালকাভাবে নেন, কিন্তু এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের ডিজাইন কপি করে নিজের নামে বিক্রি করবেন না। কোনো ব্র্যান্ডের লোগো, বিখ্যাত কোনো চরিত্রের ছবি বা অন্যের তৈরি টেমপ্লেট হুবহু ব্যবহার করলে পরে সমস্যায় পড়তে পারেন।
আরেকটা বিষয়, ক্যানভার সব এলিমেন্ট, ছবি বা ফন্ট বিক্রির কাজে যেমন খুশি ব্যবহার করা যায় না। বিশেষ করে টেমপ্লেট হিসেবে বিক্রি করতে গেলে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তাই ক্যানভার কনটেন্ট লাইসেন্সের নিয়মগুলো একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন। এই কাজটা মাত্র কয়েক মিনিটের, কিন্তু পরে বড় ঝামেলা থেকে বাঁচিয়ে দেবে।
নতুনদের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো
নতুনদের মধ্যে কিছু ভুল আমি বারবার দেখি। প্রথমত, একসাথে সবকিছু শিখতে চাওয়া। আগে একটা ধরনের ডিজাইনে দক্ষ হন, তারপর অন্যগুলোতে যান। দ্বিতীয়ত, ডিজাইনে অনেক বেশি রং আর ফন্ট ব্যবহার করা। এতে ডিজাইন সুন্দর না হয়ে এলোমেলো দেখায়।
তৃতীয়ত, ট্রেন্ড না দেখা। এখন মানুষ কী ধরনের ডিজাইন পছন্দ করছে, কোন রং আর স্টাইল চলছে, মাঝেমধ্যে সেটা দেখে নেওয়া ভালো। চতুর্থত, তাড়াহুড়ো করে কাজ জমা দেওয়া। আর সবশেষে, দু-একদিনে ফল না পেয়েই হাল ছেড়ে দেওয়া। কাজ আসতে সময় লাগে, এটা মেনে নিয়েই শুরু করতে হয়।
শেষ কথা
মোবাইল দিয়ে ক্যানভা এডিট করুন এবং বিক্রি করে আয় করুন, এটা এখন আর কঠিন কিছু না। দরকার শুধু একটা স্মার্টফোন, শেখার আগ্রহ আর লেগে থাকার মানসিকতা। ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন, নিয়মিত অনুশীলন করুন, কপিরাইটের নিয়ম মেনে চলুন, আর ক্লায়েন্টের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে কাজ আর আয় দুটোই বাড়ছে।
আশা করি আর্টিকেলটি আপনার কাজে লাগবে। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্টে জানাতে পারেন।


Please comment in accordance with Future Dokan policies Every comment is reviewed.
comment url