বিট ও বাইট এবং সংখ্যা পদ্ধতি......

কম্পিউটার শুধু দুটো সংখ্যা চেনে — ০ আর ১। এই ০ বা ১-এর প্রতিটাকে বলে এক বিট। কম্পিউটারে সংরক্ষিত বা প্রসেস হওয়া সব তথ্যের সবচেয়ে ছোট একক এই বিট।

একটা বিট দিয়ে বেশি কিছু প্রকাশ করা যায় না। তাই ৮টা বিটকে একসাথে নিয়ে একটা গ্রুপ বানানো হয়। এই গ্রুপের নাম বাইট। কম্পিউটার সাধারণত হিসাব করে এই বাইট এককেই।

বিট কাকে বলে? বাইনারি পদ্ধতির ০ অথবা ১ — এই দু'টোর একটাকে বলে এক বিট। কম্পিউটারের তথ্যের সবচেয়ে ছোট একক এটাই।

বাইট কাকে বলে? পরপর ৮টা বিট একসাথে হলে তাকে বলে এক বাইট।

বিট ও বাইট এর গঠন দেখানো ডায়াগ্রাম

বিট থেকে বাইট, কিলোবাইট, মেগাবাইট — একক গুলো যেভাবে বড় হয়

এককসমান
৮ বিট১ বাইট
১০২৪ বাইট১ কিলোবাইট (KB)
১০২৪ KB১ মেগাবাইট (MB)
১০২৪ MB১ গিগাবাইট (GB)
১০২৪ GB১ টেরাবাইট (TB)

বিট ও বাইট এর মধ্যে পার্থক্য

নামে কাছাকাছি হলেও বিট আর বাইট আলাদা দুটো জিনিস মাপে। ইন্টারনেট প্যাকেজে "১০ Mbps" মানে ১০ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড — এখানে একক বিট। আবার একটা ফাইলের সাইজ "১০ MB" মানে ১০ মেগাবাইট — এখানে একক বাইট। এই দুটো গুলিয়ে ফেললে ইন্টারনেট স্পিড নিয়ে ভুল ধারণা হতে পারে।

বিষয়বিট (Bit)বাইট (Byte)
সংক্ষেপে লেখা হয়ছোট হাতের bবড় হাতের B
মানশুধু ০ অথবা ১৮টা বিটের সমষ্টি
সাধারণত ব্যবহার হয়ইন্টারনেট স্পিড মাপতে (Mbps)ফাইল বা স্টোরেজ সাইজ মাপতে (MB, GB)
আকারসবচেয়ে ছোট এককবিটের চেয়ে ৮ গুণ বড়

তথ্য সংকেত (Coding)

কম্পিউটারকে কাজে লাগাতে হলে বিভিন্ন অক্ষর (a-z, A-Z), সংখ্যা (১, ২, ৩...) আর চিহ্ন (@ # %) নিয়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু কম্পিউটার তো ০ আর ১ ছাড়া আর কিছু বোঝে না। তাই প্রতিটা অক্ষর বা চিহ্নকে একটা নির্দিষ্ট বাইনারি কোডে রূপান্তর করে রাখা হয় — এই কোডিং সিস্টেমের নাম ASCII (American Standard Code for Information Interchange)।

বিট এবং বাইট এর তুলনামূলক চিত্র

সংখ্যা পদ্ধতি (Number System)

প্রাচীনকালে মানুষ হাতের আঙুল, পাথরের টুকরো বা দাগ কেটে গণনা করত। সভ্যতা এগোনোর সাথে সাথে বিভিন্ন সংখ্যা পদ্ধতি তৈরি হয়েছে — মিশরীয় হায়ারোগ্লিফিক্স, রোমান সংখ্যা, মায়া সভ্যতার সংখ্যা পদ্ধতি, আর ভারত-আরব থেকে আসা দশমিক পদ্ধতি, যেটা এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়।

কম্পিউটার বিজ্ঞানে মূলত চার ধরনের সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার হয়:

১. দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি (Decimal Number System)

দৈনন্দিন জীবনে আমরা এটাই ব্যবহার করি। এর ভিত্তি (Base) ১০, আর অংক ব্যবহার হয় ০ থেকে ৯ পর্যন্ত।

২. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি (Binary Number System)

কম্পিউটারের নিজস্ব ভাষা। ভিত্তি ২, আর অংক মাত্র দুটো — ০ আর ১। দশটা আলাদা অবস্থা তৈরি করা জটিল আর ব্যয়বহুল বলেই কম্পিউটার দশমিকের বদলে বাইনারি ব্যবহার করে।

৩. অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি (Octal Number System)

ভিত্তি ৮, অংক ব্যবহার হয় ০ থেকে ৭ পর্যন্ত। আগে মিনি ও মাইক্রো কম্পিউটারে এটার প্রচলন ছিল, এখন কম দেখা যায়।

৪. হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতি (Hexadecimal Number System)

ভিত্তি ১৬। ০ থেকে ৯ এর পর বাকি ছয়টা অবস্থানের জন্য A, B, C, D, E, F অক্ষর ব্যবহার হয়। কালার কোড বা মেমোরি অ্যাড্রেসের মতো জায়গায় এটা এখনও ব্যবহার হয়।

রূপান্তরের উদাহরণ

বাইনারি থেকে দশমিক:

(110010)₂ = 1×2⁵ + 1×2⁴ + 0×2³ + 0×2² + 1×2¹ + 0×2⁰
= 32 + 16 + 0 + 0 + 2 + 0
= (50)₁₀
অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে অবস্থানভিত্তিক মান

অক্টাল থেকে দশমিক:

(372)₈ = 3×8² + 7×8¹ + 2×8⁰
= 192 + 56 + 2
= (250)₁₀

হেক্সাডেসিমেল থেকে দশমিক:

(9AF)₁₆ = 9×16² + A×16¹ + F×16⁰
= 2304 + 160 + 15
= (2479)₁₀

প্রশ্নোত্তর

১ বাইট সমান কত বিট?

৮ বিট মিলে ১ বাইট হয়। এটাই বিট-বাইটের মূল সম্পর্ক।

বিট ও বাইট এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

বিট হলো কম্পিউটারের তথ্যের সবচেয়ে ছোট একক (শুধু ০ বা ১), আর বাইট হলো ৮টা বিটের একটা গ্রুপ। ইন্টারনেট স্পিড মাপা হয় বিটে, ফাইল সাইজ মাপা হয় বাইটে।

কম্পিউটারে সবচেয়ে ছোট ডেটা একক কোনটি?

বিট। বাইনারি পদ্ধতির ০ বা ১ — এই একটা মানকেই বলে এক বিট, আর এটাই কম্পিউটারের ব্যবহৃত সবচেয়ে ছোট একক।

Share this post with your friends.

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
No one has commented on this post yet.
Click here to comment.

Please comment in accordance with Future Dokan policies Every comment is reviewed.

comment url